অনলাইন ডেস্ক:
ইউক্রেনের সমর্থনে ইউরোপকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার ও ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে একটি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
রবিবার (২ মার্চ) লন্ডনে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্টারমার। সম্মেলনে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্টারমার বলেন, ‘প্রতিটি দেশেরই উচিত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসা। যার কাছে যা আছে, তা নিয়েই অবদান রাখতে হবে। সবাই নিজেদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে এই বোঝা ভাগ করে নিতে হবে।’
সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপ বর্তমানে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। শুধু আলোচনা নয়; এবার সময় এসেছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।’
এর আগে গত বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২.৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেন স্টারমার। ইউক্রেন ইস্যুতে এতদিন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে অবস্থান করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে।
গত তিন বছর ধরে ইউক্রেনকে একযোগে সমর্থন দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ও ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার পর দুই পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হয়। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বাকবিতণ্ডার পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আয়োজিত লন্ডনের সম্মেলনকে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব কমানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন স্টারমার। পাশাপাশি ইউক্রেন ইস্যুতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সম্মেলনে চারটি মূল বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে এক হওয়ার আহ্বান জানান স্টারমার—
১. ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি।
২. ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি আলোচনায় কিয়েভকে রাখা।
৩. ভবিষ্যতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানোর লক্ষ্যে কাজ করা।
৪. ইউক্রেনের নিরাপত্তায় জোট গঠন ও দেশটিতে শান্তি নিশ্চিত করা।
এ লক্ষ্যে ইউক্রেনকে ১৬০ কোটি পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন স্টারমার, যা দিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করা হবে।
তবে ইউক্রেনের সমর্থনে নেওয়া যেকোনো পরিকল্পনায় বাধা দিতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন স্টারমার।
সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে তীব্র আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। স্টারমার বলেন, ‘আমি পুতিনকে বিশ্বাস করি না, তবে ট্রাম্পের প্রতি আমার আস্থা আছে।’
এর আগে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো ও কিয়ার স্টারমার ইউক্রেনে জল, আকাশ ও স্থলপথে এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। এ সময়ে ইউক্রেনে স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ম্যাঁখো।











