অনলাইন ডেস্ক:
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক নির্বাচনী টিম নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ইইউ প্রতিনিধি দল আসবে। তাদের সঙ্গে দুপুরের পর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ১৯ আগস্ট ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি সেদিন জানান, আগামী নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে চার মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আসছে নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রত্যাশা রেখে সেপ্টেম্বরে তাদের বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে বলেও জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ ইইউ-এর জন্য অগ্রাধিকার। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য সহায়তা করবে ইইউ। গণতন্ত্রের সঙ্গে সবসময়ই আছে ইইউ। বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ। এজন্য নির্বাচন বিষয়ক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নির্বাচন কমিশন ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করবে।
এছাড়া নির্বাচনে ডিসইনফরমেশন, মিসইনফরমেশন ও ডিজিটাল সমস্যার নিয়েও কাজ করতে চায় তারা। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এদিকে, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগুচ্ছে উল্লেখ করে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচনী কেনাকাটা ৭০ শতাংশ শেষ। ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের জন্য মোটামুটিভাবে ১০টা উপকরণ আমাদের কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যে দুটো উপকরণ দেবে ইউএনডিপি। তারা ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেবো। আর আটটা উপকরণ লোকালি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই কেনা শেষ হবে। ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। উপকরণ নিয়ে সংকটের কারণ নেই। আমরা আগে যে টাইমফ্রেম নির্ধারণ করেছিলাম তার মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। জানা গেছে, লাল গালা ২৩ হাজার কেজির মধ্যে ইসিতে এসেছে ৯ হাজার ২০ কেজি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ৫০ লাখ ব্যালট বাক্সের লকের মধ্যে এসেছে ৬ লাখ, ৮ লাখ ৪০ হাজার অফিসিয়াল সিলের মধ্যে ৬ লাখ এসেছে, ১৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিং সিলের ৩ লাখ ৯৬ হাজার সংগ্রহ করা হয়েছে, ১ লাখ ১৫ হাজার ব্রাস সিলের মধ্যে ৯ হাজার ৯২০টি কেনা হয়েছে। আর ৭০ হাজার বড় হেসিয়ান ব্যাগ ও ১ লাখ ১৫ হাজার ছোট হেসিয়ান ব্যাগের সবগুলোই সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে ৯ লাখ ৪০ হাজার স্ট্যাম্প প্যাড ও ৯ লাখ ৪০ হাজার অমচোনীয় কালির কলম অক্টোবরের মধ্যে ইউএনডিপি সরবরাহ করবে। এছাড়া ১ লাখ ১৫ হাজার গানি ব্যাগের পুনদরপত্রের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে, প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে অ্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। এই অ্যাপের মাধ্যমেই প্রবাসীরা নিবন্ধন করে ভোট দেবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, অ্যাপে প্রবাসীরা নিবন্ধন করবেন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে। সেখানে তিনি ঠিকানা দেবেন। সেই ঠিকানায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যালট পেপার পাঠাবেন ভোটের আগেই। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দিতে তার নিকটস্থ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। তিনি বলেন, অ্যাপ কবে উন্মুক্ত হবে, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। ৪০টি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবাসী রয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ লাখের মতো ভোটার ভোট দেবেন বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইসি।
এদিকে, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন বিক্ষোভ-বিরোধ নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে যে নির্দেশনা আসবে, তাই বাস্তবায়ন করবে কমিশন। আখতার আহমেদ বলেন, কেউ প্রবাসে থাকা অবস্থায় পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করে দেশে চলে আসলে, তিনি আর ভোট দিতে পারবেন না। নিবন্ধনের জন্য অ্যাপ কবে নাগাদ হবে, সেটা পরে জানা যাবে। ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ইইউ প্রতিনিধি দল আসবেন। দল নিবন্ধনের ২২ দলের তদন্ত শেষ। আগামী রোববার বা সোমবার নাগাদ ইসি মিটিংয়ে তুলে জানাবো। তিনি বলেন, সংলাপের বিষয়টি শিগগিরই ঠিক করা হবে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে। সীমানা নিয়ে বিরোধ, বিক্ষোভের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ১৮টি রিট হয়েছে। আদালতের প্রতি আমরা আস্থাশীল। কাজেই সেখান থেকে নির্দেশনা আসুক, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করি। আগামী কমিশন বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের বিষয় তোলা হবে। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে তা নিয়ে কী বলবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যে কোনো প্রেক্ষাপটে ভাংচুর অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। বিষয়টা আদালতেও গেছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটা আমাদের জন্য বাধ্যবাধকতা হবে। আইনের সাত ধারায় বলা আছে, মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন রিট করা তো মৌলিক অধিকার।











