অনলাইন ডেস্ক:
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ওই অঞ্চলের গোয়েন্দা প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে সোমবার ভোরে দুটি ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, কুর্দিস্তান কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের তদন্ত অনুযায়ী, আজ ভোরের দিকে আমার ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি এই হামলা সম্পর্কে বলেন, ‘এটি একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’। আঞ্চলিক কাউন্টার-টেররিজম ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরান সীমান্ত পেরিয়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা সংস্থা পারাস্তিন এজেন্সির পরিচালকের বাসভবন লক্ষ্য করে হাদিদ-১১০ মডেলের দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনা, বিদেশী তেল কোম্পানি এবং ইরান থেকে নির্বাসিত বিদ্রোহীদের আশ্রয়দাতা এই কুর্দিস্তান অঞ্চলটি তেহরান এবং ইরাকের অভ্যন্তরে থাকা ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এক হাজারেরও বেশি হামলার শিকার হয়েছে।
কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলের আকাশে বারবার বহু ড্রোন লক্ষ্যচ্যুত ও ধ্বংস করা হয়েছে, অন্যদিকে কিছু ড্রোন বিদ্রোহী ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে আঘাত হেনেছে।
তেহরানের অভিযোগ, এসব নির্বাসিত কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠী মূলত পাশ্চাত্য ও ইসরায়েলি স্বার্থে কাজ করছে। ফলে এ বছরের এপ্রিলে ঘোষিত আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি (যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়) চলাকালেও তাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রাখে ইরান।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কুর্দিস্তানে অবস্থিত তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ও ক্যাম্প খালি করে দিয়েছে। এর আগে গত ১৭ জুলাই অঞ্চলের পূর্বাঞ্চলীয় সুলাইমানিয়া শহরের কাছে ড্রোন ও রকেট হামলায় নয়জন নিহত হন।











