ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ছাড়াল ৪৭ বিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক ব্যয় এরই মধ্যে ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার হাতে এসে পৌঁছানো মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের পেন্টাগনের গোপন নথিপত্র থেকে এই বিপুল অঙ্কের হিসাবের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা গেল জুলাই মাসে প্রতিরক্ষা দপ্তরের করা প্রাথমিক প্রাক্কলনের তুলনামূলক হিসাবে ২৫ শতাংশের বেশি। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিশাল হিসাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি এবং তথ্যগুলো জনসমক্ষে প্রকাশও করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই বিপুল ব্যয়ের প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কেবল সংঘাতে ইতোমধ্যে খরচ হয়ে যাওয়া গোলাবারুদ পুনরায় আগের মতো মজুত বা প্রতিস্থাপন করতেই চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। এই প্ল্যাটফর্ম ক্ষতির সামগ্রিক তালিকার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের ময়দানে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া বেশ কিছু বিমান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের (ইন্সপেক্টর জেনারেল) এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই সামরিক সংঘাতের ফলে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে গোলাবারুদের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন সরকার তাদের খালি হওয়া অস্ত্রভান্ডার দ্রুত পূরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, পেন্টাগন অস্ত্র সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া এবং উৎপাদনের সময়সীমা অনেকটাই সহজ করতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, অতিপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও নির্বাচিত কিছু গোলাবারুদ বিশেষভাবে মজুত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

যদিও এই প্রকাশিত তথ্যের একটি বড় অংশ এর আগেই জনসমক্ষে চলে এসেছিল, তবুও মার্কিন বাহিনীর প্রাণহানি, সাধারণ করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থ এবং বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক দিক বিবেচনা করে সংঘাতের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের সেই প্রতিবেদনটি ছিল বেশ দীর্ঘ ও তুলনামূলক বিস্তৃত। এদিকে কিছু সামরিক বিশেষজ্ঞের মতে, সংঘাতে খরচ হওয়া উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরগুলোর আগের যুদ্ধপূর্ব পর্যায় বা মজুত ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত তিন বছর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদ মারাত্মকভাবে কমে আসছে মর্মে প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের দেওয়া এই বিশেষ প্রতিবেদনটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

অন্যদিকে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচিত ওই প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে নিজেদের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান বিশ্বে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঢের বেশি অসাধারণ এবং সর্বসেরা অস্ত্র তৈরি করে চলেছে। আর সেই অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো প্রতিদিন নিয়মিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।