ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে অস্ত্রবিরতি মানেই কি শান্তি ?

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে ১২ দিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর অবশেষে ইরান ও ইসরায়েল একটি ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধকে অভিহিত করেছেন “১২ দিনের যুদ্ধ” হিসেবে।

গত ১৩ জুন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের অজুহাতে তেহরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর শুরু হয় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। প্রতিশোধ হিসেবে কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই শুরু হয় অস্ত্রবিরতির আলোচনা। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ২৩ জুন কাতারে মার্কিন ঘাঁটি আল-উদেইদে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

পরিস্থিতি ঘোলাটে থাকার মাঝেও ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।’ যদিও তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল দাবি করে, ইরান ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি।

ইসরায়েল কি পেল?

ইসরায়েল প্রথমবারের মতো ইরানের মূল পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সফল হামলা চালায়। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকেও সরাসরি জড়ায় তারা।

তবে আন্তর্জাতিক মহলে এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তেল আবিব অবশ্য একে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলেই দাবি করেছে।

ইরানের অবস্থা কী?

ইরান বলছে, তারা হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাহত হয়নি। তবে আইএইএ এখনো নিশ্চিত নয় এসব স্থাপনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইরানের মজুদকৃত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় আছে—এ নিয়ে জল্পনা চলছে।

অস্ত্রবিরতি মানেই কি শান্তি?

ইরান-ইসরায়েল এখনও শান্তিচুক্তিতে পৌঁছায়নি। অস্ত্রবিরতির মধ্যে দিয়ে সাময়িক উত্তেজনা প্রশমিত হলেও দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টে আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধের প্রস্তাব উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ঘোষণা দিয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আর কখনো পুনরায় শুরু করতে দেওয়া হবে না।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত বন্ধ হলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।