ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে মুরগির দাম বেড়েছে

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হওয়ার সময় মুরগির দাম বেড়ে গিয়েছিল, তবে তা কিছুদিন পর নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে আবারও মুরগির দাম বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার ও পাকিস্তানি জাতের মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। একইভাবে, পাকিস্তানি মুরগির দাম কেজিতে বেড়ে ৩০০-৩২০ টাকা হয়েছে।

বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের সময় মুরগির চাহিদা বাড়ে, কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানায়, এখন অনেকেই ঈদের জন্য আগেভাগে মুরগি কিনছেন, যার কারণে দাম বাড়ছে।

এদিকে, মুরগির দাম বাড়ার কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষগুলো সমস্যায় পড়েছেন। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, গরু ও খাসির মাংসের দাম এত বেশি যে তারা তা কিনে খেতে পারেন না এবং মুরগি তাদের একমাত্র ভরসা ছিল। তবে মুরগির দামও বাড়লে তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

রামপুরা বাজারের ক্রেতা রহিম বিশ্বাস বলেন, প্রতি শুক্রবার মুরগি কিনতেন, কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে গরিব মানুষের জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ঈদের মধ্যে দাম আরও বাড়বে।

মুরগির দাম বাড়ানোর সাথে সাথে সোনালি ও লাল কক মুরগির দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রয়লারের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই অন্য মুরগির দামও বাড়ে। তবে তারা আশাবাদী যে, ব্রয়লারের দাম কমলে অন্য মুরগির দামও কমে যাবে।

এদিকে, সবজির বাজারে সজিনা ও পটোলের দাম বেড়েছে। সজিনা ১৪০-১৮০ টাকা এবং পটোল ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আলুর দাম ২০-২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা এবং টমেটো ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে, এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। মুদি বাজারে অন্যান্য পণ্যের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।

এভাবে, ঈদের বাজারে মুরগি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে, তবে বাজারের কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।