
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতিভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনিয়া সহিদীয়া মাইজভান্ডারীয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী।
বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পৃথিবীতে আগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। তিনি সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে পারলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, মহানবী (স.)-এর শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর আদর্শ অনুসরণীয়। ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) শুধু আনন্দ-উৎসবের দিন নয়, বরং মহানবী (স.)-এর জীবন, কর্ম ও সুন্নাহ নিজেদের জীবনে ধারণ করারও উপলক্ষ।
দরুদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাশরের মাঠে কোনো আমলনামা কবুল না হলেও দরুদ কবুল হবে। এ কারণে তিনি সবাইকে বেশি বেশি দরুদ পাঠের আহ্বান জানান।
ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মিলাদ আগে, সিরাত পরে।’ শবে বরাতসহ ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যারা বিরোধিতা করেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা ইয়াজিদের ইসলামের পক্ষে, আর আমরা হোসাইনী ও মদিনার ইসলামের পক্ষে।’
নামাজের ওপর গুরুত্বারোপ করে শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আল্লাহর নামে নামাজ শুরু হয়। তাই কোনোভাবেই নামাজ ছাড়া যাবে না। একই সঙ্গে মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং অন্যের হক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে মুফতি আব্দুল মতিন চাঁদপুরী, মুফতি নজরুল ইসলাম রেজভী ও মাওলানা নজরুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জীসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য দেন। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আশেকান ও ভক্তরা অংশ নেন।










