নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, এসব মামলায় যাদের প্রকৃতভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই, যাচাই শেষে তাদের নাম দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে অস্ত্র লাইসেন্স যাচাই, ঈদযাত্রা নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেশন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে এসব মামলার তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এক মাসের মধ্যেই নিরপরাধদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হয়েছে। আমরা চাই নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হোক। তাই যাচাই বাছাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অস্ত্র লাইসেন্স নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অস্ত্র লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এখন সেগুলো যাচাই বাছাই করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময় জমা নেওয়া অস্ত্র এখনো ফেরত না দেওয়ার বিষয়টিও দ্রুত সমাধান করা হবে।
তিনি জানান, “নির্বাচনের আগে প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েনি। এগুলো উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ সদর দপ্তরে মনিটরিং সেল চালু করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তে মেশিন, পুলিশের বডি ক্যামেরা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ নিয়েও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে সাত দিন লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে এবং সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নেই। তবে সতর্কতা হিসেবে বিজিবিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে অনলাইন জুয়া ও অপরাধ দমনে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাও যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে পুরনো রাজনৈতিক মামলার সমাধান, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ, সব মিলিয়ে আসন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সরকার।











