নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই সময়ে মোট ২ দশমিক ১২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু ১৯ এপ্রিল একদিনেই এসেছে ১৫৯ মিলিয়ন ডলার। পুরো মাসজুড়ে ধারাবাহিক এই প্রবাহ এপ্রিলের সামগ্রিক রেমিট্যান্স চিত্রকে শক্তিশালী করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ দশমিক ৭১৯ বিলিয়ন ডলার, ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাসিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২৮ দশমিক ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩ দশমিক ৫০৪ বিলিয়ন ডলার। এতে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। তাদের মতে, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়া, হুন্ডি কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের প্রণোদনা নীতির প্রভাবেই এই প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
একজন অর্থনীতিবিদের ভাষায়, “রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকে, ডলার বাজারের চাপও কমে।” বর্তমান সময়ে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে এই প্রবাহ অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলেও তারা মনে করছেন।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার ভিত্তি আরও শক্ত হবে।











