এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্টে ‘ইউএনও দায়ী’: তোলপাড় জামালগঞ্জে

অনলাইন ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলা ভূমি অফিসের ফেসবুক পেজ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্তর করা একটি পোস্ট ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামের ওই ভেরিফাইড পেজ থেকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবেন’—এমন একটি বিস্ফোরক বার্তা দেওয়া হয়। এর কয়েক মিনিট পরই ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ লিখে আরও একটি পোস্ট করা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক তার নিজস্ব ‘ইউএনও জামালগঞ্জ’ পেজ থেকে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করেন যে, এসিল্যান্ডের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান। ইউএনওর এই পোস্টের কিছুক্ষণ পরই ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ পেজ থেকে বিতর্কিত পোস্ট দুটি মুছে ফেলা হয়।

তবে পোস্ট ডিলিট করার বিষয়টি জনমনে নতুন করে বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আইডি হ্যাক হয়ে থাকলে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কীভাবে পোস্টগুলো ডিলিট করা সম্ভব হলো? এছাড়া আইডি হ্যাকের শিকার হলে এসিল্যান্ড নিজে কেন সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি এবং তার মোবাইল নম্বরটি কেন বন্ধ রয়েছে, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এদিকে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্তকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে এবং পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেছেন।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক জানান, শুক্রবার তার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড সস্ত্রীক আমন্ত্রিত ছিলেন। কেক কাটার পর থেকেই আরিফুর রহমান শান্ত অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি ইউএনওর আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলেন এবং শিশুদেরও মারধর করেন। ইউএনও আরও জানান, এসিল্যান্ডের পরিবারের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন যে, তাকে নিয়মিত ঘুমের ইনজেকশন নিতে হয়, যা স্থানীয় কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। এছাড়া তার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক আরও বলেন, ‘তার বাসায় গিয়ে দেখি সে গ্লাস ভেঙেছে এবং অদ্ভুত আচরণ করছে। বাধ্য হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের আরএমওকে ডেকে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করি। তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি জানিয়েছেন কয়েক ঘণ্টা ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে। আমি অবাক হয়েছি যে এমন একজন মানুষ সিভিল সার্ভিসে কাজ করছেন। তার আগের কর্মস্থলেও খোঁজ নিয়ে জেনেছি তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। কেন তিনি এমন পোস্ট করলেন তা আমার বোধগম্য নয়।’

ইউএনও যোগ করেন, ‘জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে বাসা থেকে বের হয়েই তিনি ফেসবুকে ওই বার্তা পোস্ট করেন। বিষয়টি জানার পরপরই আমি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং পুলিশ ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে তার বাসায় যাই। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পরই জানা যাবে কী উদ্দেশ্যে তিনি ফেসবুকে এমন পোস্ট করেছিলেন।’