অনলাইন ডেস্ক:
কাশ্মীরে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা ও চার দিনব্যাপী পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর পরদিন, গতকাল বুধবার (১৪ মে), পাকিস্তান তাদের হেফাজতে থাকা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী পূর্ণম কুমার শ-কে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেও এই ঘটনা ‘শান্তির ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ এক বিবৃতিতে জানায়, “পূর্ণম কুমার শ, যিনি ২৩ এপ্রিল থেকে পাকিস্তান রেঞ্জারদের হেফাজতে ছিলেন, তাকে বুধবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হস্তান্তরটি শান্তিপূর্ণভাবে এবং নির্ধারিত কূটনৈতিক প্রোটোকল মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।”
এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের এক বিস্ফোরক হামলায় ২৬ জন নিহত হন। এরপর শুরু হয় ভারতের পাল্টা সামরিক অভিযান। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান হামলায় ভারি গোলাগুলি বিনিময় হয়। যদিও হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি, ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে। পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানায়।
পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতের ‘অযৌক্তিক হামলায়’ তাদের ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ৭ নারী ও ১৫ শিশু, এবং ১১ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভারত দাবি করেছে তাদের ১৫ জন বেসামরিক মানুষ ও ৫ সেনা নিহত হয়েছেন।
পূর্ণম শ-এর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রজনী শ বলেন, “আমি প্রায় সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা শুনে কিছুটা সাহস পাই। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল, আমার স্বামী ফিরে আসবেন।” দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর পূর্ণম শ-এর ফেরার খবরে পরিবারের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার এক ভাষণে বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সহযোগিতার বদলে পাকিস্তান সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। ভারতের ওপর আরেকটি হামলা হলে তার জবাব আরও কড়া হবে।”
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনন্ত কৃতজ্ঞতার বিষয়।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মোদির বক্তব্যকে “উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর” আখ্যায়িত করে জানায়, তারা ভারতের আচরণে নজর রাখছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন নয়। অঞ্চলটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং উভয় দেশই এটিকে নিজেদের অংশ দাবি করে। ২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দিলে অঞ্চলটিতে সহিংসতা ও হামলার ঘটনা বেড়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয় যে, এই সংঘর্ষ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যদিও ভারত তা অস্বীকার করেছে এবং নিজেরাও কোনো বিমান হারানোর কথা বলেনি।











