খুলনায় টার্গেট কিলিংয়ে ৪৮ ঘণ্টায় তিন খুন

জেলা প্রতিনিধি :

খুলনায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি হত্যাকাণ্ড ও একটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) রাত থেকে রোববার (৩ আগস্ট) রাত পর্যন্ত টানা এই সহিংসতায় পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এসব ঘটনা ‘টার্গেট কিলিং’, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগ এলাকায়। নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন যুবক মনোয়ার হোসেন টগর। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি মাদক ও সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হত্যার আগে দুর্বৃত্তরা টগরের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলেই তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলেও পুলিশ এখনো কাউকে ধরতে পারেনি।

একই রাতে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামে খুন হন ভ্যানচালক আলামিন সিকদার। তার স্ত্রী রিপা বেগমের প্রথম স্বামী আসাদুলের সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। আসাদুলের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তিনি এখনো পলাতক।

রবিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর ২ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন যুবক সোহেল। হেলমেট ও মুখোশ পরা সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলযোগে এসে তাকে গুলি করে চলে যায়। তিনি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই রাতে, মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকায় গলা কেটে হত্যা করা হয় ঘের ব্যবসায়ী আলামিনকে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় খুনিদের শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডগুলো ‘টার্গেট কিলিং’ হতে পারে। তবে আসামিদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় অবস্থান শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। কেএমপি পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দারের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বহু চিহ্নিত সন্ত্রাসী জেল থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা সন্ত্রাসীদের বাড়তি সাহস দিচ্ছে।”

তিনি সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান।