খুলনায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকে গুলি করে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি:

খুলনার দিঘলিয়ায় নাসিমুল গণি করিম ওরফেসি নামে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতাকে বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাসিম দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা এলাকার মৃত আবদুল গফুরের ছেলে।

 

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আঞ্চলিক নেতা হিসেবে তিনি দিঘলিয়া ও খুলনা এলাকায় সংগঠনটির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ফরমাইশখানা এলাকার তৈয়বের চায়ের দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় ভ্যানে করে আসা দুজন তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর মাথায় তিনটি গুলি লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা গুলি ও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, নাসিমের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা, একটি অস্ত্র ও একটি মারামারির মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

প্রসঙ্গত, নাসিমের বিরুদ্ধে গণেশ হত্যা মামলায় ৩২ বছরের কারাদণ্ড এবং একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদ হত্যাচেষ্টা ও জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তিনি আসামি ছিলেন।

 

২০০২ সালে গণেশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৫ সালের ১৮ জুন রাতে দিঘলিয়া থানা-পুলিশ তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করে। তবে থানায় নেওয়ার পথে তাঁর সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেয় বলে পুলিশ জানায়। চার দিন পর ২২ জুন খুলনার খালিশপুরের মুজগুন্নি পার্ক এলাকার একটি ভবন থেকে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।