খুলনায় ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি

ফাইল ছবি

জেলা প্রতিনিধি :

রমজানে পেঁয়াজের বাজার ছিল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, তবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খুলনার পাইকারি ও খুচরা বাজারে হঠাৎ করে এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সেই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা পর্যন্ত।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) দিনভর নগরীর নিউ মার্কেট, ময়লাপোতা ও দৌলতপুরসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে বাড়িতে মজুত করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কৃষকের কাছ থেকে যেসব ব্যাপারী সরাসরি পেঁয়াজ কেনেন, তাদের একটি অংশ বাজারে তা ছাড়ছেন না। তারা ভারত থেকে আমদানি বন্ধের অজুহাতে পেঁয়াজ মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির পাঁয়তারা করছেন।

মোকামে প্রতি মন পেঁয়াজের দাম এখন ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা, যা কেজি হিসেবে দাঁড়ায় ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। পাইকারি ও পরিবহন খরচসহ খুচরা বাজারে তা পৌঁছতে দাম পৌঁছে যাচ্ছে ৬০ টাকায়। ফলে পুরো বাজারেই বাড়তি দাম গচ্ছা দিতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

নগরীর খুচরা ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, তাদের হাতে দাম নির্ধারণের কোনো ক্ষমতা নেই। পাইকারি বাজারে যেভাবে দাম বাড়ছে, সেভাবেই তারা পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করছেন। নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী কালু জানান, “আমরা পাইকারি বাজার থেকে ৫৩-৫৪ টাকায় কিনছি। খরচ বাদ দিয়ে সামান্য লাভে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।”

অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। এর পেছনে ভোক্তাদের মজুত মনোভাব ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রচেষ্টা রয়েছে।

এ বিষয়ে সুজন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, “রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়া তারই প্রমাণ। সরকার যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠবে।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, খুলনার উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, “বাজারে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি চলছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে কেউ যদি কারসাজি করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, রমজানের মতো নিয়মিত মনিটরিং চালু রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষ স্বস্তি ফিরে পায়।