খুলনা মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট, সর্বোচ্চ ইয়াবা চালান আটক

জেলা প্রতিনিধি:

খুলনা জেলা বর্তমানে মাদক চোরাচালানের একটি নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার থেকে খুলনা হয়ে যশোর পর্যন্ত সড়কপথে মাদক কারবারিরা ইয়াবা চোরাচালান করছে নানা কৌশলে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এই রুটটি মাদক পাচারের জন্য বেছে নিয়েছে তারা। তবে খুলনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক উদ্ধার এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশের অভিযানে রোহিঙ্গা তৌহিদুল করিম (২৫) এবং ইমরান খান (৩১) নামক দুই ব্যক্তি আটক হয়। তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার পিস ইয়াবা, ৪টি এক হাজার টাকার জাল নোট, ২টি মোবাইল ফোন এবং একটি ভুয়া বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। গতকাল খুলনায় এই প্রথম সর্বোচ্চ ইয়াবার চালানটি আটক করা হলো।

আটক ইমরান খান জানান, রোহিঙ্গা তৌহিদুল করিম যশোরের কোতয়ালি থানার ঘোষপাড়া পালবাড়ীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং তারা মিলে কক্সবাজার থেকে খুলনা হয়ে যশোর রুটে ইয়াবা চোরাচালান করতেন। তৌহিদুল করিম কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট এলাকার বাসিন্দা।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কুতুবউদ্দিন জানান, কেএমপি’র ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ ইয়াবার চালান, যা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের মাধ্যমে মাদকের উৎস, পরিবহনকারী, অর্থ লগ্নিকারীসহ মাদক চক্রের প্রধান গডফাদারদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা এবং যশোর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে। সাতক্ষীরা থেকে খুলনা, চুকনগর এবং অভয়নগর হয়ে ফুলতলা পর্যন্ত মাদক পাচার হচ্ছে। এছাড়া, যশোরের বেনাপোল থেকে খুলনাগামী কমিউটার ট্রেনকেও মাদক পরিবহনের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই চক্রের সদস্যরা সড়ক ও রেলপথে সুকৌশলে মাদক পাচার করে আসছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান প্রায় প্রতিদিনই চলছে, তবে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ী আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, বিশেষত জিরো পয়েন্ট, খানজাহান আলী থানার পথের বাজার, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ আরও অনেক এলাকায় মাদক বিক্রি হচ্ছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪৪টি বাস যাতায়াত করে, যেগুলোর মাধ্যমে মাদক চোরাচালান হয়ে থাকে। এসব বাসে মাদক ঢাকাসহ অন্যান্য জায়গায় প্রবেশ করে, অথবা সীমান্ত অতিক্রম করে চলে যায়।