নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি দেশজুড়ে “আপোসহীন নেত্রী” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় দেশে চলছিল জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন। এরশাদবিরোধী নয় বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়া রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপির নেতৃত্ব নেওয়ার পর ১৯৮৩ সালে তিনি সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আট দলীয় জোট এবং বামপন্থী দলগুলোর পাঁচ দলীয় জোটও আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট এরশাদ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ না নিয়ে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
নির্বাচন বর্জন করে দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলনে থাকার কারণে খালেদা জিয়া আপোসহীন নেত্রী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। এ আন্দোলনের সময় তাকে তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়।
বিএনপি নিয়ে গবেষণাধর্মী বইয়ের লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়া বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
এর মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ওই নির্বাচনে তিনি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের আগে তিন জোটের আন্দোলনের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন। সে অনুযায়ী পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালুর বিল উত্থাপন করেন। সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিলটি পাস হয় এবং দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে আবারও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসে।











