নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং সমস্যা চিহ্নিত করতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গবেষণা জাহাজ আর.ভি.ড.ফিরাদতযফ ন্যানসেন কর্তৃক পরিচালিত সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ও ইকোসিস্টেম জরিপের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত বৈঠকেও তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, “নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে, যা ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। এটি ওভারফিশিংয়ের প্রভাব।” তিনি আরও বলেন, দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর সমুদ্রে বড় মাছ কমে যাচ্ছে, স্বল্প গভীরতাতেও মাছের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করছে, যার মধ্যে ৭০টি সোনার ফিশিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে। মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, “এভাবে টার্গেটেড ফিশিং করলে বঙ্গোপসাগর মাছ শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিং নিয়ে সরকার শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবে।” এছাড়া ডিপ সি ফিশিংয়ে টুনা মাছের ভালো সংখ্যা পাওয়া গেছে। সুন্দরবনের নিচে পাওয়া ফিশিং নার্সারিকে সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু তার সমপরিমাণ জলভাগও রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ ঠিকমতো কাজে লাগানো হয়নি। এর পরিমাণ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যও আমরা জানি না। আমাদের লক্ষ্য এই সম্পদকে সচেতনভাবে ব্যবহার করা, যার জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতি-সমর্থন প্রয়োজন।”
বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএইন্টারপ্রাইস বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে, যা দেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। ড. ইউনূস জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। যাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে তাদের সঙ্গে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।”










