ইলিয়াস আলী গুম: ট্রাইব্যুনালে বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। ২৩ আগস্ট সকাল ৯টার পর তাকে ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির করা হয়। ৯ আগস্ট জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আনা হয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। পরে রাষ্ট্রপক্ষ তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে।

 

সাইফুর রহমানকে গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা, প্রভোস্ট, তার বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে। এর আগে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ গত ৯ আগস্ট সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তদন্তে ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতেও তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলীকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইলিয়াস আলী সে সময় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সিলেট-২ আসন থেকে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

 

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমান বাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি বিমান বাহিনীতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রসিকিউশনের ভাষ্য। মামলাটিতে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

 

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পর তাঁর গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো।