অনলাইন ডেস্ক:
গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে চালানো এই হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই এক পরিবারে সদস্য ছিলেন। হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।
হামাস পরিচালিত গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে এই বিমান হামলার ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চলের আরও গভীরে প্রবেশ করেছে এবং হামাসের বিরুদ্ধে তাদের অভিযানকে আরও তীব্র করেছে।
এ হামলার মাত্র একদিন আগে ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হাতে ইসরায়েলি নাগরিকদের জিম্মি করার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
শুক্রবার ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ সম্প্রসারণের জন্য তাদের স্থল বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। স্থল অভিযানের আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার উত্তরাংশের কিছু এলাকা খালি করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছিল।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর জানিয়েছে, গত মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অতর্কিত হামলা চালায়, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। এই হামলায় হামাস ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বেশিরভাগ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা প্রায় ২০ হাজার হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে, তবে এর সমর্থনে কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারেনি।
চলমান এই যুদ্ধ গাজাকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, এবং ভূখণ্ডের বেশিরভাগ অঞ্চল এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলার মাত্রা এতটাই প্রবল যে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।











