গোপালগঞ্জে পৌরপার্ক রণক্ষেত্র, ১৪৪ ধারা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে ফেরার পথে নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপি নেতারা সমাবেশ শেষে মাদারীপুরের টেকেরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। হাতবোমা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপের বিকট শব্দে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান শহরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুরের পর জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। ফলে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, জমায়েত কিংবা মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) থেকেই এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বুধবার সকালে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ ঘটে, পরে ইউএনওর গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। দুপুর দেড়টার দিকে সমাবেশস্থলে এক দফা ককটেল হামলার ঘটনাও ঘটে।

বেলা ২টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌরপার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন,

“যদি আজকে বাধা দেওয়া না হতো, তাহলে গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখানে লোকে লোকারণ্য করতো। আমরা এসেছি শান্তি ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।”

তিনি আরও বলেন, “এই পদযাত্রার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এবং গোপালগঞ্জবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছি।”

সমাবেশ শেষে হামলার মুখে এনসিপি নেতারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং পরে তারা গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিরাপদ আশ্রয় নেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।