চট্টগ্রামে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে এবং ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস) নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্কয়ারের উদ্যোগে রাত সাড়ে ৯টায় ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব লোহাগাড়া-সাতকানিয়া’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা ‘ইসকন, তুমি সন্ত্রাসী, স্বৈরাচারের সাথী’, ‘বাংলাদেশে ইসকনের ঠাই নেই ঠাই নেই’ সহ একাধিক স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা দাবি জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবী হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হোক, ইসকন নিষিদ্ধ করা হোক, তাদের অর্থের উৎস অনুসন্ধান করা হোক এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ঢাবির আইন অনুষদের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, “এটি স্পষ্ট যে, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার পেছনে যারা রয়েছে, তারা কোনো মুসলমানকে হত্যা করেনি, বরং একজন সরকারি আইনজীবীকে হত্যা করেছে। কোনো ধর্মীয় সংগঠন এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে না।” তিনি সনাতনীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “ইসকন এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদকে নিষিদ্ধ করতে সবার সম্মিলিত আওয়াজ উঠানো উচিত।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তাহমিদ আল মুদাসসির বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারি আইনজীবী হত্যার নজির নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার হওয়া উচিত। এছাড়াও, ইসকনকে নিষিদ্ধ করা উচিত এবং তাদের অর্থায়ন কোথা থেকে আসে, তা খুঁজে বের করতে হবে।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “ইসকন বিভিন্ন দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে, তাই বাংলাদেশেও তাদের নিষিদ্ধ করা উচিত।”

এর আগে আন্দোলনকারীরা ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের গায়েবানা নামাজে জানাজা পড়েন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করার পর পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।