চরম সংকটে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ :

নওগাঁর সবচেয়ে বড় উপজেলা মান্দার ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চরম জনবল সংকটে ভুগছে। ২৪টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে এখানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। ফলে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত রোগীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২৪টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১০টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এসব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এর পাশাপাশি নেই অ্যাম্বুলেন্স চালকও। ফলে সচল থাকা দুটি অ্যাম্বুলেন্স গত এক বছর ধরে গ্যারেজে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। চালক না থাকার পাশাপাশি নেই জ্বালানি বরাদ্দও।

আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাসনিম হোসাইন আরিফ জানান, একমাত্র চালক অবসরে যাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সগুলো আর ব্যবহৃত হয়নি। চালক নিয়োগ এবং তেলের বরাদ্দ চেয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন বহির্বিভাগে এবং ১৩০ থেকে ১৪০ জন রোগী জরুরি ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। অথচ রোগী দেখেন মাত্র চারজন চিকিৎসক। রোগীর চাপ সামাল দিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সাতজন স্বাস্থ্য সহকারী প্রেষণে এনে কিছুটা কাজ চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে সেবা না পেয়ে তারা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান রোগীরা।

সতীহাট এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুজ্জামান সেতু বলেন, “চালকের অভাবে লাখ টাকার অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা দায়িত্বশীলদের অবহেলার ফল।”

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন মুনীর আলী আকন্দ বলেন, “শুধু মান্দাই নয়, জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।”