নিজস্ব প্রতিবেদক:
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আজ প্রথম দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি ঋণের সুদের হার কমানো, পানি প্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, চিকিৎসা সহযোগিতা এবং মিয়ানমার পরিস্থিতির সমাধানে চীনের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে তৌহিদ হোসেন এই সফর করছেন, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষত, গত বছরের আগস্টে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি একটি উল্লেখযোগ্য দ্বিপক্ষীয় সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফরের সময় বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তৌহিদ হোসেন দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন। এছাড়া, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, চায়না ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ও সাংহাই ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বৃদ্ধির জন্য সাংহাইয়ে চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ এবং চীন হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বিনিময়ে একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পেও চীনের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে, এই সফর পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার একটি উল্লেখযোগ্য চিহ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিতেন, কিন্তু এই সফরে চীনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। বিশেষত, অবকাঠামো প্রকল্পে ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। তৌহিদ হোসেন এই সফরের সময় ঋণের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি, চীনে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আলোচনা করবেন। তিনি চীন থেকে আরও ঋণ সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে বাজেট সহায়তা পেতে আশাবাদী।
চীনে বাংলাদেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে, উভয় দেশ বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
রোহিঙ্গা সংকট ও স্বাস্থ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আলোচনা হবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় ভূমিকা আশা করে, এবং চীন বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা প্রদানেও সহযোগিতা করবে।
এছাড়া, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবেলার জন্য চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হবে











