চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পাটপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) রোববার চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় সিম্পোজিয়ামে অংশ নেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ‘কস্টিউম, কালচার, এন্ড কানেকশন: এ বাইলেটারাল সিম্পোজিয়াম অন ট্রডিশনাল অ্যাটায়ার এন্ড কালচারাল এক্সচেইঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বস্ত্র ও পাট খাতের উন্নয়নে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

মন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পাটপণ্যের উৎপাদন বাড়ানো গেলে পাটের দাম বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষকরাও পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন খাতকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি চীনে পাট রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলেন।

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি দ্বিগুণ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের যুক্ত করতে হবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

 

মন্ত্রী জানান, দেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর কারিকুলাম পর্যালোচনা করে চীনের আধুনিক টেক্সটাইল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশের ফ্যাকাল্টিদের চীনে পাঠানোর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে। তবে উচ্চমূল্যের পণ্য ও ভ্যালু অ্যাডেড টেক্সটাইল উৎপাদনের মাধ্যমে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে ম্যান-মেড ফাইবার ও ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে অনেক দেশ এ খাত থেকে অন্য খাতে অগ্রসর হলেও বাংলাদেশের জন্য টেক্সটাইল খাতে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের এই রূপান্তরকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

 

পাট খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা হবে।

 

কাঁচা পাটের পরিবর্তে পাটকে ব্লেন্ডেড ফাইবার, ফেব্রিক ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা গেলে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলেও জানান মন্ত্রী।

 

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রতিনিধি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।