ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউরের মামলায় সিদ্ধান্ত ২১ জুলাই

প্রকাশিত: 5 July 2026, 8:13 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ২১ জুলাই আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বর্তমানে কারাগারে থাকা মতিউর রহমানকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়।

 

আদালত সূত্র ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীদের তথ্যমতে, শুনানিতে মতিউরের পক্ষে আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বোরহান উদ্দিন তাকে নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তারা আদালতকে জানান, মতিউরের আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র সঠিক রয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

অন্যদিকে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম অব্যাহতির বিরোধিতা করে বলেন, মতিউরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তাই আইনের বিধান অনুযায়ী অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

 

শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মতিউর রহমান নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি, দুর্নীতি করিনি।”

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মতিউর রহমান ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

 

২০২৪ সালের কোরবানি ঈদের আগে তার ছেলে মুশফিকুর রহমানের ১৫ লাখ টাকা দামের একটি উচ্চবংশীয় ছাগল কেনার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মতিউর রহমান দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। পরে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

মন্তব্য করুন