ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে র‌্যালিতে অংশ নিলেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: 7 November 2026, 6:01 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীতে আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিতে পায়ে হেঁটে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিন বিকাল ৩টার পর রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য এই সার্বভৌমত্ব র‌্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুহূর্তের মধ্যে পুরো র‌্যালিটি একটি বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

এ সময় চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে বিভিন্ন স্লোগানে, আর নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ছাড়াও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত নানা রঙের প্ল্যাকার্ড।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা শুরু করে এই র‌্যালিটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

মূল র‌্যালিটি শুরু হওয়ার আগে, এদিন বিকাল পৌনে ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত নয়াপল্টনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিশাল এই র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম ডা. জাহিদ হোসেন, তাছাড়া আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনারও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও এই কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইফ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

ঐতিহাসিক এই র‌্যালিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং এর পাশাপাশি ঢাকা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা দলে দলে যোগ দেন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর দীর্ঘকাল পর বিএনপি অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দীর্ঘ এই সময়ে অতীতে এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে।

ফলস্বরূপ, দেশের নতুন প্রজন্ম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রকৃত ঘটনা, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল।

তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সঠিক ও সত্য ইতিহাস দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার এক সোনালী সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন