নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আলোচিত এই ঘটনায় একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালটির কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেন। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসাইন মো. মঈনুল আহসানও হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঈদের আগের দিন, বুধবার সকালে মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং বিকল্প বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব কারণই নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চাইলেও তাদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হয়নি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
ঘটনার পর হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী এক পরিবারের পক্ষ থেকে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত নবজাতকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে।”
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলকে তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।











