অনলাইন ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮৪ জন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে বেকাসি শহরের একটি রেলস্টেশনের কাছে একটি কমিউটার ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। উদ্ধার অভিযান শেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে হতাহতের সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করে রেল কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। ট্রেন দুটির বগি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মাদ স্যাফি।
স্থানীয় রেল অপারেটর কেএআই জানায়, শুরুতে নিহতের সংখ্যা কম থাকলেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর তা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়ায়। আহতদের মধ্যে ৮৪ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় একটি ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং একই লাইনে আসা আরেকটি ট্রেন সেটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনের ভেতর এখনও কেউ আটকে নেই, তবে ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় নতুন কোনো দেহাংশ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য নির্ধারিত একটি কোচ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার রেল কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদারের কথা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে রেল দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৪ সালে পশ্চিম জাভায় আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে।
এই দুর্ঘটনা আবারও ইন্দোনেশিয়ার রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।











