জাতিসংঘের রিপোর্টের পর আ. লীগের মুখ রক্ষার আর কিছুই নেই: ডা. জাহিদ

অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, “জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের মুখ রক্ষা করার আর কিছুই নেই।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপির যে বক্তব্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, সেটি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনে প্রমাণিত হয়েছে।”

গত মঙ্গলবার লন্ডনে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তৃতা দেন ডা. জাহিদ। তিনি বলেন, “বিএনপি গত ১৭ বছর ধরে যা বলে আসছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সেটিই উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক আদালত কিংবা দেশীয় আদালতে আওয়ামী লীগের মুখ রক্ষা করার আর কোনো উপায় নেই।”

ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, “স্বৈরাচারী সরকার উন্নয়নের কথা বললেও বাস্তবে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে, এবং প্রতিটি নাগরিকের ওপর ঋণ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা বলা হলেও, দেশ আজ অর্থনৈতিক দুর্দশায় ভুগছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টর ভেঙে পড়েছে, এবং দলীয়করণের ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করতে পারছে না। নির্বাচনে জনগণের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হয়ে গেছে।”

ডা. জাহিদ বলেন, “ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে, কিন্তু সেই ঘটনা কেউ জানে না। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ১১৬ বার পিছিয়েছে। আজ প্রমাণিত হচ্ছে যে, শেখ হাসিনা তাদের খুন করিয়েছে।”

তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ঘটনাও তুলে ধরেন। বলেন, “ছাত্রদল এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং তারা জানাবে, কাদের উসকানিতে এই ঘটনা ঘটেছে।”

ডা. জাহিদ আরও বলেন, “আমরা ঐক্য চাই, এবং স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার চাই। যারা এখনো মানুষের রক্তে হাত রাঙিয়ে রেখেছে, তাদের বিচার করতে হবে।”

তিনি বিএনপির দৃঢ় অবস্থান সম্পর্কে বলেন, “বিএনপি আন্দোলন, সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে জানে। বিএনপির ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এই দল জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবে।”

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির উদ্দিন শাহিন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কায়সার এম আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।