নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ভাষণকে ‘যথেষ্ট শক্তিশালী’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে— এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগ দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “ভাষণে জাতীয় ঐক্য এবং সংস্কার কর্মসূচি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। অধ্যাপক ইউনূস যে উদ্দেশ্য নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ছিল ভাষণে।”
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যখন দেশে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তখন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সমাজের সমর্থনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই অধ্যাপক ইউনূসের সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল।
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ভাষণে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। “এক বছরের মধ্যেই আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে এই সরকার,” বলেন তিনি।
অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন ও কাঠামোগত রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ২০২২ সালে তারেক রহমান ‘৩১ দফা’ উপস্থাপন করেছিলেন।”
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে শাসনব্যবস্থা রেখে গেছে, তা একটি মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছিল। এই পরিবর্তনের সূচনা করেছে বর্তমান সরকার।
জাতিসংঘে বিরোধী দলকে সঙ্গে নেওয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “ইতিহাসে এই প্রথম একজন সরকার প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতিসংঘের মঞ্চে গেছেন— এটি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। আমরা তাতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি।”
তাঁর মতে, জাতীয় ঐক্য প্রদর্শনের এ চেষ্টাই বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন বলে জানান তিনি।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর পিআর (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) দাবি নিয়ে ফখরুল বলেন, “বিএনপি স্পষ্টভাবে পিআরের পক্ষে নয়— না নিম্নকক্ষে, না উচ্চকক্ষে। এই ইস্যু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে।”











