জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানকে উপেক্ষার সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এগুলোকেই সঙ্গে নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে।

সোমবার (২১ জুলাই) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের ষোড়শ দিনের আলোচনার শুরুতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৫৩ বছরের সংগ্রাম এবং গত বছরের গণঅভ্যুত্থান—এই সবকিছুকে কেন্দ্র করেই আমাদের রাষ্ট্রীয় পথরেখা নির্ধারিত হয়েছে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গঠিত এ রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় এসব ঐতিহাসিক পর্বকে বাদ দিয়ে এগোনো সম্ভব নয়।”

তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় সনদ প্রস্তুত করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“আমাদের হাতে এখন মাত্র ১০ দিন রয়েছে। কিছু বিষয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়া গেলেও বেশ কিছু বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে,”—যোগ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ববর্তী দিনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ড. রীয়াজ বলেন, সংশোধিত প্রস্তাবের বেশিরভাগ অংশের সঙ্গে প্রতিনিধিদের সম্মতি রয়েছে। কোনো দল চাইলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারে এবং সেটি জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।

কমিশনের ওপর অর্পিত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন সংক্রান্ত পরামর্শ আগামী ১-২ দিনের মধ্যে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেন ড. রীয়াজ।

তিনি আরও বলেন, “আশা করছি রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতায় আমরা দ্রুত একটি ঐক্যমতে পৌঁছাতে সক্ষম হবো।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আজকের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

এদিন আলোচনায় অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।