নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে না। আলোচনায় অগ্রগতি হলে এবং জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে উপযুক্ত সময়েই ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনার ভিত্তিতে এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সফরের সময় ঠিক করা হবে। তার ভাষায়, “একটু অগ্রগতি হোক। আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা অবশ্যই যাব, যখন সময়টা উপযুক্ত হবে।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায়। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেন রাখব না? তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত।”
তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে আমরা কিছু করতে পারি না।”
শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, “শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেড় হাজার মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী হিসেবে ভারতে গেছেন।” তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল এসেছে এবং আরও অনেক মামলা বিচারাধীন।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। সুতরাং এগুলো নতুন কোনো শর্ত বা নতুন কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এগুলো চলমান বিষয়।”
ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আরও অপরাধী আছে, যারা পালিয়ে ভারতে আছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি এবং তাদের অনুভূতির বিষয়। সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই।”
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে দ্রুত কোনো ঐকমত্য হলে আগামী সপ্তাহেও সফর হতে পারে। আবার প্রয়োজন হলে তার পরের সপ্তাহেও যাওয়া সম্ভব। তার কথায়, “এখানে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।”
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আলোচনা দরকার বলেও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, “দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে কিছু প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমরা সেটিই করছি।”
ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও লক্ষ করেছে।
শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের পরের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, “তারা স্বীকার করেছে যে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তারা বিষয়টি লক্ষ করেছে।”
এটিকে ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বাকি আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়, সেটিই দেখার বিষয়। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়েই ভারত সফর করা হবে।
হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এবং প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন উপস্থিত ছিলেন।










