নিজস্ব প্রতিবেদক:
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে বহিষ্কৃত হলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নথি হাতে পাওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর সাধারণ নীতি তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা চিঠি এখনও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে পৌঁছেনি বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসির নিজস্ব কার্যপ্রণালি ও উপ-নির্বাচনের ঘোষণার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। অফিশিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আইন, বিধিমালা ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কোনো অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সঠিক নয়। লিখিত নথি ও সুনির্দিষ্ট আইন কোট করেই ইসি তার দাপ্তরিক অবস্থান স্পষ্ট করবে। নথিপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা এবং পরবর্তী উপ-নির্বাচন সংক্রান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হবে।
এর আগে বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না এবং সংশ্লিষ্ট আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে কি না-তা এখন নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।











