জুয়া, মাদক ও অবৈধ সিসা লাউঞ্জে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে, সংসদে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অবৈধ সিসা লাউঞ্জ, মদ, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারাদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক নোটিশের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল এবং যুবসমাজকে রক্ষায় কঠোর অভিযান ছাড়া বিকল্প নেই।

 

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন ওঠার পর মন্ত্রী জানান, শুধু অভিযান নয়, এসব প্রতিষ্ঠান যেন নাম-ঠিকানা বদলে আবার চালু হতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সংশোধিত ২০২০ অনুযায়ী সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিলভুক্ত। ফলে অবৈধ সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযান আইনি ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সংসদে বলেন, “আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে আমরা সারাদেশে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করবো। যুবসমাজকে রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।”

 

এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক অভিযানের তথ্যও তুলে ধরা হয়। গত ১৬ এপ্রিল গুলশান-২ এলাকায় অবৈধ সিসা বারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও হুক্কা জব্দ করা হয়। ২০ এপ্রিল বনানীর ‘দ্য এস লাউঞ্জ’ নামের একটি সিসা বারেও অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযোগ ছিল, সেখানে মাদক ব্যবহারসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম চলছিল।

 

মন্ত্রী জানান, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদেরও সচেতন করা হচ্ছে।

 

সংসদে তিনি আরও বলেন, কেউ যদি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা ঠিকানা পরিবর্তন করে এই ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

 

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক, অনলাইন জুয়া ও অবৈধ বিনোদনকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে এই ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, রাজধানীকেন্দ্রিক অভিযান এবার জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, শুধু সিসা লাউঞ্জ নয়, জুয়া ও মাদকের বিস্তার ঠেকাতেও সরকার সমন্বিত অভিযানেই যাচ্ছে। তার ভাষায়, “এদেশের যুব সমাজকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নাই।”