স্বস্তি এনসিপিতে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৯ মিনিট দেরিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় বাতিল হওয়া প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি জটিলতায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ আদেশ নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

 

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মনোনয়ন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

 

নুসরাত তাবাসসুমের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, মো. মনিরুজ্জামান ও জহিরুল ইসলাম মুসা। শুনানিতে বলা হয়, সামান্য সময় বিলম্বের কারণে একজন প্রার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ বাতিল হওয়া ন্যায়সংগত নয়, সেই যুক্তিতেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।

 

ঘটনার সূত্রপাত ২২ এপ্রিল। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়ন জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে কমিশন।

 

এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন এনসিপির এই নেত্রী। সেই রিটের শুনানি শেষে আদালত তার পক্ষে নির্দেশনা দিল।

 

আদালতের আদেশের পর বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনায় এসেছে। কারণ, একই দিনে এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন আপিলে বহাল না থাকলেও নুসরাত তাবাসসুমের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করল।

 

আইনজীবী পক্ষের বক্তব্য, “আদালত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী বিবেচনার পথ খুলে দিয়েছেন।” এতে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা আবার জোরালো হলো।

 

তফসিল অনুযায়ী, ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের নির্দেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।