ট্রাক্টর গেলেই চাকা ধসে যায় : দিশেহারা হাজারো কৃষক

বাবুল আক্তার, নওগাঁ :

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের হাপানিয়া ব্রীজের পশ্চিম পাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পূণর্ভবা নদীতে জেগে ওঠা কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার অন্তত ১০-১৫টি গ্রামের কৃষকদের জন্য একমাত্র পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই পথ দিয়ে তারা মাঠ থেকে তাদের হাজার হাজার বিঘা জমির ধান ঘরে তোলা করে থাকেন।

তবে বর্তমানে এই রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, ট্রাক্টরের মতো শক্তিশালী যানবাহনও চলাচল করতে পারছে না। কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, “প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে নদীর উপর দিয়ে ধান ঘরে তুলি। কিন্তু এবার রাস্তা এত খারাপ হয়ে গেছে যে, ট্রাক্টর ঢুকলেই ডেবে যাচ্ছে। অনেক ধান এখনও মাঠেই পড়ে আছে।”

ট্রাক্টরচালক রব্বুল হাসান বলেন, “রাস্তায় দুটি রিং ভেঙে গেছে। ওই জায়গায় গেলেই চাকা ধসে যায়। একাধিকবার চেষ্টা করেও চলাচল সম্ভব হয়নি। পরে দড়ি বেধে অন্য ট্রাক্টর দিয়ে টেনে তুলতে হয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুর আলি বলেন, “এটি শুধু রাস্তা নয়, আমাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র পথ। বছরের কিছু সময় আমরা নির্ভর করি এই পথের ওপর, কিন্তু এখন কেউ দেখছে না।”

গোয়ালা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য বুলবুল আহমেদ ও নারী সদস্য হাসিনা বেগম বিষয়টি অবগত আছেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, “এটি একটি অস্থায়ী পথ, তবে কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি কয়েকবার রাস্তা সংস্কার করেছি, কিন্তু অনভিপ্রেত ব্যবহারজনিত কারণে আবারও রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছে। ভাঙা ইট দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কারের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমানে অন্তত হাজার বিঘা জমির ধান মাঠে পড়ে রয়েছে, যা দ্রুত ঘরে তোলা না গেলে বৃষ্টির কারণে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হয়, যার মূল্য লক্ষ লক্ষ টাকা।

কৃষক ও স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙা ইট দিয়ে রাস্তাটি সাময়িকভাবে হলেও সচল করার দাবি জানিয়ে বলেন, না হলে এবার শত শত কৃষক পরিবার বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।