অনলাইন ডেস্ক:
রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ তথ্য জানান।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ইউক্রেনের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত মন্তব্যও এ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। তার এসব মন্তব্য প্রায়ই মস্কো ও কিয়েভকে বিস্মিত করেছে।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প একতরফাভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করেন। তবে এ যুদ্ধবিরতির বিষয়টি কখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে মস্কো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে।
বুধবার রাশিয়া আবারও বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানোর পর জেলেনস্কি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘তেল শোধনাগারে হামলার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। আমরা আর তা মেনে চলছি না।’
ইউক্রেন মস্কোর দক্ষিণে রিয়াজান শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে বলে রাশিয়া বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বারবার হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে ইউক্রেনও ধীরে ধীরে রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাল্টা হামলার পরিধি বাড়িয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল শোধনাগারও রয়েছে।
বিশেষ করে মস্কোর সঙ্গে আকস্মিক ডিজেল সরবরাহ চুক্তি করার পর ট্রাম্প ইউক্রেনের এসব হামলার সমালোচনা করেন।
তিনি ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের নির্দেশও দেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন কয়েক দিনের জন্য হামলা বন্ধ রেখেছিল।
ওই সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেন হামলার চেষ্টা করেছিল বলে মস্কো যে দাবি করেছে, তা কিয়েভ অস্বীকার করেছে।
হামলা বন্ধ রাখলেও ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে বলে জানান জেলেনস্কি।
স্টারলিংক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে সামরিক বাহিনীগুলোর ব্যবহারের জন্য তৈরি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্টারশিল্ডের গতি বুধবার কমিয়ে দেওয়া হয়।
জেলেনস্কি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এটি কোনো কারিগরি সমস্যা ছিল না, এটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত।’
কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন। রাশিয়ার বিমান হামলা থেকে নিজেদের শহরগুলোকে রক্ষা করতে ইউক্রেন আগাম সতর্কবার্তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তার সঙ্গে জেলেনস্কির প্রকাশ্য বিরোধের জেরে ওয়াশিংটন গোয়েন্দা সহযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে— এমন আশঙ্কা আগেই দেখা দিয়েছিল।
এরপর থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে। ট্রাম্পের পরিবর্তনশীল অবস্থানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছে কিয়েভ।











