নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার অসংখ্য বাড়ির উঁচু দেওয়ালের আড়ালে থাকে এক অদৃশ্য, পরিশ্রমী শ্রেণি — গৃহকর্মীরা, যারা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করছেন। তাদের শ্রম কখনো স্বীকৃত, কখনো নিয়ন্ত্রিত নয়, তেমনি সুরক্ষিতও নয়।
অধিকাংশই নারী এবং অনেকেই কিশোরী; তারা রান্না করেন, ঘর পরিষ্কার করেন, শিশুদের দেখাশোনা করেন। তবু সমাজে তাদের অবদান নিয়ে আলোচনার সুযোগ খুবই সীমিত। গত ১৬ জুন আন্তর্জাতিক গৃহকর্মী দিবস পালিত হলেও, বাংলাদেশে তাদের অবস্থানে কোনো অর্থবহ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গৃহকর্মী নারী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬-১৭ সালে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ ৩৬.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ গৃহকর্মী কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের অল্পবয়সী মেয়েরা।
তবে তাদের কাজের শর্ত খুবই দুর্বল। ৯০ শতাংশের বেশি গৃহকর্মীর লিখিত কোনো চুক্তি নেই, আর তাদের মাসিক গড় আয় মাত্র ১৫ ডলার। ২০২২ সালের এক সমীক্ষায় জানা গেছে, ৯৩ শতাংশ নারী গৃহকর্মী কর্মস্থলে হয়রানির শিকার হন; যার মধ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ব্যাপক।
নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ, অনেক গৃহকর্মী দালালদের মাধ্যমে অজানা বাড়িতে পাঠানো হয়, যেখানে তাদের শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সরকার ২০১৫ সালে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ চালু করলেও বাস্তবায়ন শূন্য, শ্রম আইনের আওতায় না থাকায় তাদের সুরক্ষা নেই।
বিশেষ করে শিশু গৃহকর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই শিক্ষার সুযোগ হারিয়ে অল্প বয়সেই কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দুর্ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে গৃহকর্মী তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।
দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই অদৃশ্য শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উন্নয়নের ছবি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।











