মোঃ সাকিক হারুন ভূঁইয়া:
রাজধানী ঢাকায় অবৈধ বাসের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। নগর পরিবহনের সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায় ৩ হাজার অবৈধ বাস রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। এর মধ্যে শুধু হাতিরঝিলেই চারটি কোম্পানির বাস অনুমোদন ছাড়াই চলছে।
সরকারি সংস্থা বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার মোট আয়তনের মাত্র ৭.৫ শতাংশ সড়ক থাকলেও গণপরিবহনের জন্য উপযুক্ত রাস্তা মাত্র ২.৫ শতাংশ। এই স্বল্প পরিসরে অনুমোদনহীন যানবাহনের আধিক্যে যানজট ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
শাহবাগ মোড় দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করা ১,২২৫টি বাসের মধ্যে ৬৫৫টি অবৈধ। মতিঝিল দিয়ে চলা ৫৭৫টি বাসের মধ্যে ২৬২টি অনুমোদনহীন। বাড্ডা-রামপুরা, মোহাম্মদপুর-মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী রুটেও বেশিরভাগ বাসের বৈধতা নেই।
নির্দিষ্ট কিছু পরিবহন কোম্পানির অবৈধ বাস চলাচলের চিত্র:
সাভার পরিবহন লিমিটেড (সদরঘাট-নবীনগর) – ২০৪টির মধ্যে ১৩৭টি অবৈধ
রজনীগন্ধা পরিবহন লিমিটেড (ঘাটারচর-সোনারগাঁ) – ১২২টির মধ্যে ১০৯টি অবৈধ
রাইদা এন্টারপ্রাইজ (দিয়াবাড়ি-পোস্তগোলা) – ২১১টির মধ্যে ১০০টি অবৈধ
মৌমিতা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড (নন্দন পার্ক-চাষাঢ়া) – ১৯৮টির সবকটিই অবৈধ
২০১৫ সালে হাতিরঝিলে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হলেও জানুয়ারি থেকে সেখানে অনুমোদনহীন বাস চলতে শুরু করে। চারটি অবৈধ বাস কোম্পানি হল প্রভাতী বনশ্রী, গাজীপুর পরিবহন, বলাকা ও আজমেরী গ্লোরী। এসব বাস সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, সদরঘাট থেকে হাতিরঝিল হয়ে গাজীপুর পর্যন্ত চলাচল করছে।
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রধান সড়কগুলোতে এসব যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, এসব যান নিবন্ধনের আওতায় নেই, ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, যাত্রী চাহিদার সুযোগ নিয়ে অবৈধ বাস পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে ১০টি বাস চলার অনুমতি আছে, সেখানে ২০টি চলছে।
ডিটিসিএ ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, হাতিরঝিলে চলাচল করা অবৈধ বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে চিঠি ইস্যু ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীতে অনুমোদিত গণপরিবহন নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ না করলে যানজট, দুর্ঘটনা ও পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।











