ঢাকায় জমে উঠছে কোরবানির হাট: প্রস্তুতি-চ্যালেঞ্জে টান টান পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঈদুল আজহার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় জমে উঠেছে কোরবানির গবাদিপশুর হাট। সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ১৮টি হাটে ইতোমধ্যে ব্যাপক পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু, ছাগল ও মহিষ নিয়ে হাটে হাজির হচ্ছেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে হাটগুলোতে কার্যক্রম শুরু হয়। গাবতলী হাট ছাড়া সবই অস্থায়ী। এছাড়া, কিছু এলাকায় গড়ে উঠেছে অনুমোদনবিহীন হাটও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গোখাদ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পশুর দামও বেড়েছে। এক ব্যবসায়ী জানান, “জ্বালানি ও টোল বেড়েছে, ফলে কম দামে বিক্রি সম্ভব না।” অপর ব্যবসায়ী বলেন, “শুরুতে বিক্রি কম হলেও ঈদের আগের সপ্তাহে ভিড় বাড়বে।”

সিটি কর্পোরেশনগুলো হাট ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন পানি, স্যানিটেশন, সিসিটিভি নজরদারি ও মোবাইল পশু চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অনলাইন পশু কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মগুলো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এছাড়া কোরবানি হাটের আর্থিক লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, ৩ জুন থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত ঢাকার হাটসংলগ্ন ব্যাংকগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অস্থায়ী ব্যাংক বুথও স্থাপন করা হচ্ছে।

জুনের প্রথমার্ধে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় কর্পোরেশনগুলো নর্দমা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে হাটে কাদা জমে কেনাবেচায় অসুবিধা হতে পারে।
ঢাকার হাট মানে কেবল বাণিজ্য নয়

এই হাট কেবল অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু নয়—এটি বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও উৎসর্গের প্রতীকও। যানজট, দাম, কিংবা বৃষ্টির আশঙ্কা—সবকিছুর মাঝেও ক্রেতা-বিক্রেতারা এক সফল কোরবানি মৌসুমের আশায় দিন গুনছেন।