তনু হত্যা মামলা: ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

পিবিআই জানিয়েছে, হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ গত ৬ আগস্ট স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।

 

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করা এবং একই আদেশে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় হাফিজুর রহমানকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তিনি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

তনু হত্যা মামলায় এর আগে গত ২২ এপ্রিল হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান। ২ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন। এরপর ৪ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

 

হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে। শুনানি শেষে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাফিজুর রহমানকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আত্মসমর্পণ না করায় আদালতের নির্দেশে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

 

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

হাফিজুর রহমানের বয়স ৫২ বছর। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।

 

যেভাবে হত্যা করা হয় তনুকে

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি পড়াতে যান। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।

পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপের মধ্যে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

 

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ছিলেন, বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পরদিন তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

 

দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। হাইকোর্টের জামিনে মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই সেই জামিন স্থগিত হওয়ায় আবারও তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।