জেলা প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখনও সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার প্রায় ৮৫ কিলোমিটার সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর মধ্যে মাত্র ১২ কিলোমিটারে আংশিক সংস্কারকাজ শুরু হলেও, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এখনো নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি সেতুর টেন্ডার শেষ হয়েছে বলে জানালেও, ভাঙা রাস্তা ও বড় গর্তে ভরা অধিকাংশ এলাকা দিয়ে যান চলাচল এখনও দুরূহ হয়ে আছে।
কলকলিয়া, রানীগঞ্জ, আছিমপুর, পাইলগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কগুলোর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাজুক। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে সড়ক হয়ে পড়ে বিপজ্জনক।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জানান, “তিন বছর ধরে একটাও রাস্তা সংস্কার হয়নি। বাধ্য হয়েই ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি।”
আরেকজন বাসিন্দা হাসন আলী বলেন, “শুধু টেন্ডারের খবর পাই, কাজ কিছুই হয় না।”
রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, “রানীগঞ্জ-বাগময়া সড়ক চলাচলের একমাত্র রাস্তা হলেও সংস্কার হয়নি। আছিমপুর-শিবগঞ্জ রাস্তাও একই অবস্থা।”
পাইলগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজম উদ্দিন জানান, “জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। সংস্কার না হওয়ায় মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ হচ্ছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, “২০২২ সালের বন্যার পরই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা পাঠানো হয়। তবে একাধিক জেলার ক্ষয়ক্ষতি একত্রে বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পে সময় লেগেছে।”
তিনি বলেন, “২০২৫ সালে কিছু প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, কাজও শুরু হয়েছে—চিলাউড়া-হলদিপুর, জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ, কেশবপুর-এড়ালিয়া রোডসহ কয়েকটি এলাকায়।”
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “বর্ষা শেষে পুরোদমে সংস্কারকাজ শুরু হবে।”
এদিকে বর্ষা মৌসুমে আবারও দুর্ভোগের আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।











