দর বাড়া শেয়ার বেশি, তবু তিন মাসের সর্বনিম্নে ডিএসই সূচক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা থামছে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় প্রতিষ্ঠান বেশি থাকলেও প্রধান মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক চলতি বছরের ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমলেও সেখানে লেনদেন বেড়েছে।

 

বুধবার লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যায়। এতে দিনের শুরুতেই প্রধান সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। লেনদেন শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টার মাথায় ডিএসইএক্স একপর্যায়ে ২২ পয়েন্ট বেড়েও যায়।

 

সূচকের এই উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ এক ঘণ্টায় এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। এতে দাম বাড়ার তালিকা থেকে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় চলে আসে। বিশেষ করে বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সূচক পতনেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

 

দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৬৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫০টির দাম কমেছে এবং ৭২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

 

ভালো কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত, অর্থাৎ ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৩টির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেছে ৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দর। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৫টির কমেছে এবং ১২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৬৩টির দর কমেছে এবং ৩০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে, ২টির কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

দাম বাড়ার তালিকা বড় হলেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে নেমেছে। এর ফলে সূচকটি চলতি বছরের ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ওই দিন ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৫২০ পয়েন্ট।

 

অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১০ পয়েন্টে উঠেছে।

 

সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনও কমেছে। বুধবার বাজারটিতে ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৭০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

 

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে এনভয় টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।

 

লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইর শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের বাকি কোম্পানিগুলো হলো এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সেনা ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।

 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দরপতনের চিত্র ছিল বেশি স্পষ্ট। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৩টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমায় সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫৯ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

 

তবে সূচক কমলেও সিএসইতে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বুধবার সেখানে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

 

ফলে বুধবারের বাজারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে কিছুটা বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়লেও বড় মূলধনের শেয়ারে বিক্রির চাপ সূচককে নিচে নামিয়েছে এবং লেনদেনও কমেছে। অন্যদিকে সিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমলেও লেনদেন বেড়েছে।