অনলাইন ডেস্ক:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে এই নৌপথে পাড়ি দিতে ২০-৩০ মিনিট লাগত, এখন সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ।
সরেজমিন দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে দেখা গেছে, তীব্র স্রোতের কারণে পন্টুনে কোনো লঞ্চ বাঁধা নেই। শুধুমাত্র যাত্রী, হকার ও টিকিট চেকারদের আনাগোনা রয়েছে। স্রোতের তোড়ে পন্টুন কেঁপে উঠছে বারবার। নিরাপত্তার জন্য চালকদের সতর্ক করতে পন্টুনে লাঠির মাথায় লাল কাপড় টাঙানো হয়েছে।
নদী পারাপারে যাত্রীদের যেমন বাড়তি সময় লাগছে, তেমনি লঞ্চচালক ও ফেরিচালকদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি বেগে। এমভি নিপু-১ লঞ্চের মাস্টার কাজী শফিক বলেন, “আগে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া যেতে ২২ মিনিট লাগত, এখন লাগছে ৫০ মিনিট পর্যন্ত।” তিনি আরও বলেন, একসময় যেখানে ঘাটে ৮-১০টি লঞ্চ থাকত, এখন নিরাপত্তার কারণে মাত্র একটি করে লঞ্চ রাখা হচ্ছে।
পাটুরিয়া থেকে আসা লঞ্চ এমভি নজির এক্সপ্রেসের যাত্রী শাহ আলম ব্যাপারী বলেন, “মাত্র ৪ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে ৪৭ মিনিট লেগেছে, আগে লাগত ২০ মিনিট।” লঞ্চটির মাস্টার মুরাদ মিয়া জানান, নদীর স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে সময় ও শ্রম দুই-ই দ্বিগুণ হচ্ছে, এমনকি নিরাপদভাবে পন্টুনে লঞ্চ ভেড়াতেও কষ্ট হচ্ছে।
ফেরিগুলোর অবস্থাও একই রকম। আগের ৩০-৩৫ মিনিটের পরিবর্তে এখন ফেরিগুলোকে ৫০-৬০ মিনিট সময় লাগছে। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের এজিএম মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, “স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন ১৬টির জায়গায় ১২টি ফেরি চালানো হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনুযায়ী।”
বলা চলে, এই নৌপথে বর্তমানে লঞ্চ ও ফেরি দুটোই কার্যত “স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ” করছে। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে চালক-স্টাফ সবারই ভোগান্তি বাড়ছে।











