দ্বিতীয় দফা ত্রাণ নিয়ে ইয়াঙ্গুনে পৌঁছাল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মিয়ানমারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফা মানবিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা সমুদ্র অভিযান’ ইয়াঙ্গুন বন্দরে পৌঁছেছে। ঢাকায় পাঠানো এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, জাহাজটি ১২০ মেট্রিক টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী বহন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৭৫.৫ মেট্রিক টন শুকনো খাবার, পানি, স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ, তাঁবু এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী।

শনিবার ইয়াঙ্গুনের এমআইটিটি জেটিতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ত্রাণ হস্তান্তর করেন ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের চিফ মিনিস্টার ইউ সো থেইনের কাছে। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমার সরকারের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আফতাব হোসেন, নৌবাহিনীর জাহাজের ক্যাপ্টেন, কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা।

রাষ্ট্রদূত মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিয়ানমারের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নিরলস ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ১ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নেপিডোতে পরিচালিত কার্যক্রমকে তিনি মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষত ২০২৩ সালের সাইক্লোন মোখা’র সময় বাংলাদেশ যেভাবে সহায়তা প্রদান করেছে, এই ত্রাণ সহায়তা তারই ধারাবাহিকতা। রাষ্ট্রদূত একইসঙ্গে মিয়ানমার রেডক্রসের নির্বাহী কমিটির সদস্যের কাছে আরও ৮০০ বক্স হাইজিন কিট হস্তান্তর করেন, যা একই জাহাজে পাঠানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, চলতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ প্রথম ধাপে দুটি ত্রাণ চালান পাঠায়, যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৬.৫ ও ১৫ মেট্রিক টন। তখন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিনটি এবং সেনাবাহিনীর দুটি বিমান ত্রাণসামগ্রী ও একটি ৫৫ সদস্যের উদ্ধারকারী দল নিয়ে মিয়ানমারে পৌঁছায়।

এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে, সংকটে নিপতিত প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানোতে বাংলাদেশ কখনও পিছিয়ে থাকে না। সাহায্যের এই হাত ভবিষ্যতের জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রইল।