নতুন আইন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠায় দায়িত্ব পালনের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নবনিযুক্ত ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১৮০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) প্রথম কর্মদিবসে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে তাদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল।

 

রোববার (২ আগস্ট) সকালে সুপ্রিম কোর্টে নবনিযুক্ত ২৬৬ জন আইন কর্মকর্তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধান, আইন ও ন্যায়বিচারের নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নতুন আইন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকার যে উদ্দেশ্যে তাদের রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মামলা পরিচালনার সময় কোনো নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

 

প্রথম কর্মদিবসে নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের নিয়ে আপিল বিভাগে যান অ্যাটর্নি জেনারেল। সেখানে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। দোয়ার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করার কথাও জানানো হয়েছে।

 

নতুন আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

 

এ সময় মুক্ত ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইং আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ৮৬ জন ডিএজি ও ১৮০ জন এএজি নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২-এর ৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এসব নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যকর থাকবে বলেও জানানো হয়।

 

নতুন আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন শুরু হলো। প্রথম কর্মদিবসেই তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।