নাটোরে বায়ো ফিশ ফিড ও বায়ো ফার্টিলাইজারের পরীক্ষামূলক সাফল্য

জেলা প্রতিনিধি :

নাটোরে প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত মাছের খাবার বা বায়ো ফিশ ফিড এবং জৈব সার তৈরিতে সাফল্য পেয়েছেন জীববিজ্ঞানী ড. জি এন এম ইলিয়াস। তার উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষের খরচ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে, একই সঙ্গে এটি মানবদেহ ও পরিবেশের জন্যও নিরাপদ।

ড. ইলিয়াস দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে ব্ল্যাক সোলজার লার্ভি ও ট্রাইকোডার্মা ছত্রাকের সমন্বয়ে তৈরি করেছেন এই প্রাকৃতিক ফিড। স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতোমধ্যে সাফল্য মিলেছে। ফিডটি মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য প্ল্যাংটনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং হাঁসের খাবার হিসেবেও উপযোগী।

মাছচাষি শফিউল হক ও মেহেদী হাসান জানান, তারা নিজেদের পুকুরে এই ফিড ব্যবহার করে ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছেন এবং এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এছাড়া, ড. ইলিয়াস মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক দেশে ফিরেই কৃষিতে প্রয়োগ করেন এবং আলুসহ মাটির নিচের ফসল উৎপাদনে ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধির সফলতা অর্জন করেন। উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা ইতোমধ্যে এই বায়ো ফার্টিলাইজার ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, চীন সরকার বাংলাদেশের পোল্ট্রি লিটার আমদানিতে আগ্রহ দেখালেও দেশেই তা ব্যবহার করে রাসায়নিক সার নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় তা কাজে লাগানো যেতে পারে।

এই গবেষণা মাছ ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।