নিজস্ব প্রতিবেদক:
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীর মেধাক্রম ও পছন্দের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর একাদশের ভর্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত আগের পদ্ধতিই বহাল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের দু-এক দিন আগে এ বছরের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।
ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে **সোমবার (১০ আগস্ট)**। প্রথমে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ফল প্রকাশের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ জুলাই থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। ফল প্রকাশের ১০ দিন পর আবেদন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এখন ছুটিসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে। নতুন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর ভর্তির আবেদন শুরুর তারিখ জানানো হবে।
যেভাবে হবে একাদশে ভর্তি
কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে হয়।
এরপর শিক্ষার্থীর ফল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনা করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। কলেজ ও মাদ্রাসায় এই কেন্দ্রীয় ভর্তি পদ্ধতি চালু রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি অবশ্য আলাদা প্রক্রিয়ায় হয়।
ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ভর্তি নেয়। তবে দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও আগের নিয়মেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। তবে বিভিন্ন কোটা নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হওয়ায় কোটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ভর্তি পরীক্ষা চালুর ক্ষেত্রে নানা জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করাও কঠিন। তাই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন বোর্ডের ওই কর্মকর্তা।
২৬ লাখের বেশি আসন, পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।
তবে পরীক্ষার্থী ও আসনের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য আরও বাড়তে পারে। পরীক্ষার প্রথম দিনই ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও আরও কিছু পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেননি।
এ কারণে এবারও একাদশ শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য প্রতি বছরই কিছু আসন খালি থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে গত বছর পাসের হার সবচেয়ে কম হওয়ায় তখন খালি আসনের সংখ্যাও বেড়েছিল।
এবার কত আসন খালি থাকবে, তা নির্ভর করবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। পাসের হার বেশি হলে খালি আসনের সংখ্যা কমবে। আর পাসের হার কম হলে খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।











