পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে বড় পরিকল্পনা সরকারের: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশজুড়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক জাগরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, যা কৃষি, মৎস্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। একই দিনে তিনি বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়ার কাজলী নদী পরিদর্শন করেন এবং শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদী ভরাট হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

স্থানীয়ভাবে শুরু হওয়া এ প্রকল্পকে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছে। একই দিনে চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোষেরহাট এলাকায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করে মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ জনগণকে সরাসরি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করছে।

 

মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। এটি শুধু একটি কর্মসূচি ছিল না, বরং একটি আন্দোলন ও বিপ্লব। আজ আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করছি।”

 

তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করছে, কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়াচ্ছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা।

 

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গজারিয়ার জামালদী এলাকায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

চাঁদপুরে পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আরও বলেন, “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা গেলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।” তিনি জানান, যেসব এলাকায় অবকাঠামোগত জটিলতা রয়েছে, সেগুলো আইনগতভাবে সমাধান করা হবে।

 

উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখনন শুধু পানি ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নদী ও খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পারলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।

 

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আসবে।