পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল ও সংশ্লিষ্ট আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন। এর ফলে পাঁচটি পৃথক মামলায় তার জামিন বহাল থাকল।

 

এই পাঁচ মামলার মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যা মামলা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের করা একটি মামলা। আদালত সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল, তবে তা টেকেনি।

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা। অন্যদিকে খায়রুল হকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, মোতাহার হোসেন সাজুসহ কয়েকজন আইনজীবী।

 

শুনানি শেষে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, “পাঁচ মামলায় জামিন বহাল থাকলেও এখনই খায়রুল হক কারামুক্তি পাচ্ছেন না, কারণ তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে যেখানে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

 

এর আগে গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট চারটি মামলায় এবং ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যায়, যা শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়।

 

তবে আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এর পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় পৃথক দুটি মামলা এবং দুদকের একটি দুর্নীতির মামলা রয়েছে।

 

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিন বহাল থাকলেও একাধিক মামলার কারণে তার মুক্তি এখনই নিশ্চিত নয়।

 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান এ ধরনের মামলা দেশটির বিচার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিবিসি ও রয়টার্স এখনো বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি।

 

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালে দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০১১ সালে অবসরে যান। পরবর্তীতে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।